
আরিয়ান ইসলাম হৃদয় :
কেরানীগঞ্জে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: ৪ বছর জেল খেটে ফেরার পথেই প্রেমিকার ‘ফাঁদ’, সিআইডির তদন্তে ধীরগতি ও পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে রবিন আহমেদ রানা নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪ বছর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফেরার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে পরিবার।
জেল থেকে মুক্তি ও রহস্যজনক অন্তর্ধান
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন রবিন আহমেদ রানা। ১০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু ঘরে ফেরার পর থেকেই শুরু হয় নতুন নাটকীয়তা।
অভিযোগ রয়েছে, জনৈক এক নারী (আত্মীয়া), যার সাথে রানার দীর্ঘদিনের প্রেম ও সামাজিক বিরোধ ছিল, তিনি আবারো মেসেঞ্জারে রানার সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। যোগাযোগের একপর্যায়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ওই নারী রানাকে তার এলাকায় দেখা করার জন্য ডেকে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই রানার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সাথে তার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পুলিশের ভূমিকা ও পরিবারের আকুতি
রানা নিখোঁজ হওয়ার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তার পরিবার কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ প্রথমে টালবাহানা করে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ থেকে রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া স্থানটি ওই নারীর বাড়ি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, রানার মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় সরঞ্জাম ওই নারীর পরিবারের কাছে থাকলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো পরিবারের অভিযোগ— পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে নিহতের পরিবারের হাতে একটি মিথ্যে অভিযোগের কাগজ ধরিয়ে দেয় এবং পরিবার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ বাদী হয়ে ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' হিসেবে সাজিয়ে মামলা দায়ের করে।
আদালতে নারাজি ও সিআইডির তদন্তে অবহেলা
পুলিশের এই একপাক্ষিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিহতের পরিবার আদালতে 'নারাজি' পিটিশন দাখিল করে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। কিন্তু সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টরের অধীনে তদন্তভার যাওয়ার এক বছর পার হতে চললেও এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্তের (অটোপ্সি) চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তার বা চার্জশিট দাখিলের বিষয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
উল্টো মামলার শিকার পরিবার
রানার পরিবার যখন বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে চার মাস আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি পাল্টা মিথ্যা ও নাটকীয় মামলা দায়ের করে আসামি পক্ষ। বর্তমানে প্রকৃত খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় রবিন আহমেদ রানার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নিহত রানার পরিবারের দাবি, অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের দুর্নীতি ফাঁস করা হোক এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে রবিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page