
হাসান মাহমুদ জয়-ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে কামাত আঙ্গারিয়া (তেঁতুলবাড়ি) এলাকায় অবস্থিত ‘তা’লিমুন নিসা হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা’। ১৯৮৩ সালে যখন এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তখন লক্ষ্য ছিল এই অবহেলিত জনপদে নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। আজ ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্য বদলায়নি, বরং জরাজীর্ণ টিনের বেড়ার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে ১১০ জন নিষ্পাপ বালিকা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
দীর্ঘ এই পথচলায় মাদ্রাসাটি এলাকার গর্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতি বছর এখান থেকে ৪ থেকে ৭ জন ছাত্রী হাফেজা হয়ে বের হচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে চরম এক মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। বর্তমানে ১১০ জন ছাত্রীর মধ্যে ৩ জন এতিম শিশু রয়েছে, যাদের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই এই জরাজীর্ণ মাদ্রাসাটি। বাবা-মায়হীন এই অবুঝ শিশুগুলোর চোখের জল আর শিক্ষার আকুতি যেন মিশে আছে মাদ্রাসার প্রতিটি কোণায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক এই যুগেও মাদ্রাসার চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে পুরনো ও ভাঙা টিনের বেড়া দিয়ে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, ১১০ জন ছাত্রীর ব্যবহারের জন্য এখানে নেই একটিও বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল। নেই ওজু করার নির্দিষ্ট জায়গা কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। কনকনে শীত হোক কিংবা তপ্ত রোদ, খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের ওজু-গোসলের কাজ সারতে হয়। মাদ্রাসায় ঢোকার একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, যা ছোট ছোট শিশুদের জন্য চলাচলের অনুপযোগী হয়ে দাঁড়ায়।
মাদ্রাসার ৩ জন মহিলা শিক্ষক ১ জন্য পরিচালক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের সামর্থ্য ফুরিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘশ্বাস মেশানো কণ্ঠে একটিই প্রশ্ন— ‘আমাদের এই এতিম মেয়েগুলোর কি একটু ভালোভাবে থাকার অধিকার নেই?’ প্রতিষ্ঠার চার দশক পার হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি অনুদান মেলেনি এই প্রতিষ্ঠানে। এলাকাবাসীর যৎসামান্য সহযোগিতায় কোনোভাবে টিকে আছে এই জ্ঞানালোক।
উপজেলার অন্যতম প্রাচীন এই মহিলা মাদ্রাসাটি আজ ধ্বংসের মুখে। ১১০ জন বালিকা শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ আর ৩ জন এতিম শিশুর শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে আজ সমাজের বিত্তবান এবং প্রশাসনের মানবিক সহায়তা বড় প্রয়োজন। একটি টিউবওয়েল, একটি অজুখানা আর কিছু পাকা দেয়াল হয়তো বদলে দিতে পারে এই শিশুদের জীবন। আমরা কি পারি না এই আলোর প্রদীপটিকে নিভে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে?
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page