
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী, চিকিৎসায় দুর্ভোগ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রায় ৮০ জন রোগী। অথচ এই ওয়ার্ডটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০ জন। শয্যা না থাকায় নিরুপায় হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন নতুন রোগী হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে প্রায় সমসংখ্যক রোগী বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তবে নতুন রোগী আসার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আইসোলেশন ওয়ার্ডের ওপর চাপ কমছে না।
বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আকতার হোসাইন জানান, “বর্তমানে হাসপাতালে হামের রোগীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহীন ভূইয়া বলেন, “প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও আমাদের চিকিৎসা সেবায় অনেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তির বিষয়।”
এদিকে, ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসোলেশন ওয়ার্ডের পরিধি বাড়ানো এবং চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page