
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান :
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের একটি ধানক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নানা গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাউহাটী ইউনিয়নের পয়লাবাড়ী গ্রামের একটি ধানক্ষেতে স্থানীয় কৃষকরা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে উদ্ধারের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই নারীর ছবি ব্যবহার করে অনেকে দাবি করছেন, তিনি গতকাল মানিকগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। এ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে পোস্ট, লাইভ এবং মন্তব্যের ঝড় বইছে।
পুলিশের বক্তব্য
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিরুল ইসলাম দৈনিক জন জাগরণকে বলেন, "উদ্ধার হওয়া নারী এখনো কথা বলার অবস্থায় নেই। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মানিকগঞ্জের ঘটনার সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।"
তিনি আরও বলেন, "যাচাই-বাছাই ছাড়া ফেসবুকে ছবি ও তথ্য শেয়ার করে তদন্ত কাজকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিকভাবে হেয় হতে পারে। গুজব ছড়ানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।"
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
টাঙ্গাইল নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, "একটি স্পর্শকাতর ঘটনায় অনুমানের উপর ভিত্তি করে কারো ছবি ভাইরাল করা অত্যন্ত অনৈতিক। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। একটি ভুল তথ্য একটি পরিবারকে সারাজীবনের জন্য ধ্বংস করে দিতে পারে।"
সর্বশেষ অবস্থা
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, "ওই নারীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।"
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাইবার মনিটরিং টিম গুজব রটনাকারীদের শনাক্তে কাজ করছে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page