সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ৩০.০৪.২০২৬
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ সাধারণ দলিল লেখকদের। চাঁদার দাবি প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ৩৬ জন দলিল লেখক।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ ১৫ (পনের) বছর ধরে অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অন্যায়ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় হঠাৎ করে সামান্য কয়েকজন দলিল লেখক স্বঘোষিতভাবে কমিটির আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক সেজে অতীতের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও হয়রানির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে চায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে সাধারণ দলিল লেখকদের মতামত না নিয়েই একতরফা কমিটি করা হয়। সেই কমিটির আহবায়ক ফারুক হোসেন ও সদস্য সচিব আজিজুল লস্কর। এরা দুজনই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফারুক হোসেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও আজিজুল লস্কর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক।
সম্প্রতি তারা দলিল লেখক ফান্ডের নামে সাধারণ দলিল লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি তালিকা পাঠায়। যেখানে সরকারি ফি বাদেই শতক ও কোবলা মূল্য প্রতি অতিরিক্ত টাকা আদায়ের তথ্য রয়েছে। সেই তালিকা এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে সরকারি ফি বাদেই হেবা, পাওয়ার ও বন্টন নামা শতক প্রতি ৩ (তিন) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) থেকে ১০ (দশ)৷ হাজার ৫০০ (পাঁচশত) টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সরকারি ফি বাদেই কতিথ দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডকে সর্বনিম্ন কোবলা মূল্য সর্বনিম্ন ১(এক) লাখ টাকা মূল্যের জমিতে ২ (দুই) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) টাকা ও সর্বোচ্চ ১ (এক)৷ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে ৮৫ (পচাশি) হাজার টাকা দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নাসির উদ্দিন নামে এক দলিল লেখক সমিতির নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও কোনো কমিটি ছিল না। সাধারণ মানুষ সরকারি ফি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করেছে। কিন্তু সাধারণ দলিল লেখকরা চাই না যে কমিটির মাধ্যমে চাঁদাবাজি হোক। আমরা কোন সমিতি চাই না। হঠাৎ করে যুবদলের দুই নেতা জোরপূর্বক নিজেদেরকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব ঘোষণা করে সমিতির নামে চাঁদাবাজি করার পাঁয়তারা করছে। সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এই সমিতির নামে চাঁদাবাজি মেনে নেওয়া হবে না।
দলিল লেখক আব্দুল আরিফ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন এক নাসিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন আবার কিছু লোক নাসির সাজার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না সমিতি হোক। সমিতি হলে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে টাকা আদায় করে সমিতিকে দিতে হবে।
আরেক দলিল লেখক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, যারা দলিল করতে আসবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতেও চাই না, আর এই চাঁদাবাজি সমিতিকে দিতেও চাই না। আমরা এই লক্ষে ইউএনও বরাবর লিখিত দিয়েছি।
এ ব্যাপারে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের আহবায়ক ফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। অন্য কেউ বানিয়ে আমাদের নাম দিয়ে দিয়েছে। সাধারণ দলিল লেখকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না।
আমি এই বিষয়ে কিছুই জানিনা। সরকারি ফি বাদে অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়া হবে না।।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ দৈনিক জনজাগরণ পএিকার ঝিনাইদহ প্রতিনিধিকে জানান, কয়েকজন সাধারণ দলিত লেখকরা এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page