
মোঃ তারিকুল ইসলাম খান :
বৃষ্টির দিনে জাহিদ প্রথম শুনেছিল মেঘলার হাসি। ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরির জানালার পাশে বসে মেয়েটা রবীন্দ্রনাথ পড়ছিল, আর বাইরে তখন আকাশ ভাঙা বৃষ্টি। জাহিদ ছাতা এগিয়ে দিয়েছিল। মেঘলা বলেছিল, "ভিজতে ভালো লাগে।"
সেই থেকে শুরু। ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া, হলের সামনের টং দোকানের চা, আর রাত জেগে থিসিস লেখার ফাঁকে ফোনে কথা। জাহিদ ভাবত, মেঘলা তার ভাগ্য। মেঘলা বলত, "আমরা একসাথে থিসিস জমা দেব, একসাথে চাকরি খুঁজব।"
কিন্তু থিসিস জমা দেওয়ার মাসখানেক পর মেঘলার কানাডার স্কলারশিপ হয়ে গেল। এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগের রাতে মেঘলা বলল, "জাহিদ, আমি স্বপ্নটা ছাড়তে পারব না। তুমি অপেক্ষা করবে?"
জাহিদ হেসেছিল। বলেছিল, "আকাশের জন্য পাখিকে আটকাতে নেই।"
আজ পাঁচ বছর। মেঘলা টরন্টোতে সেটেলড, বিয়ে করেছে সেখানকার এক রিসার্চারকে। ফেসবুকে ছবি দেয়, হাসিমুখে। জাহিদ এখন খুলনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়। বৃষ্টি হলেই সে লাইব্রেরির সেই জানালার পাশে গিয়ে বসে।
টেবিলের ড্রয়ারে এখনও একটা চিঠি পড়ে আছে। কোনোদিন পোস্ট করা হয়নি। শেষ লাইনে লেখা:
"তুমি ভালো থেকো মেঘলা। আমি শিখে গেছি, সব গল্পে দুজন একসাথে শেষ পর্যন্ত থাকে না। কিছু গল্প সুন্দর হয় বিচ্ছেদেই। ভেজা কৃষ্ণচূড়ার মতো - ঝরে গেলেও রঙটা রয়ে যায়।"
ব্যর্থতা? হয়তো। কিন্তু যে ভালোবাসা মানুষকে বড় হতে শেখায়, স্বপ্নকে সম্মান করতে শেখায়, সেটা কি আসলেই ব্যর্থ?
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page