মাসুম বিল্লাহ, খুলনা:
ভৈরব-রূপসা বিধৌত দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের প্রবেশদ্বার খুলনার ১৪৪ তম জন্মদিন আজ। ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই জেলাটি আজ তার গৌরবের দেড় শতাব্দী ছোঁয়ার পথে। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে 'বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি'র উদ্যোগে পালিত হয়েছে বর্ণাঢ্য 'খুলনা দিবস'।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে এক বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রখর রোদ আর তপ্ত আবহাওয়া উপেক্ষা করে কয়েক হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উৎসবে শামিল হন। ঢাকঢোল, বাদ্যযন্ত্র আর নানা রঙের ফেস্টুন হাতে খুলনার সাধারণ মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং রাজনীতিবিদদের পদচারণায় রাজপথ যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দিনব্যাপী এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় খুলনার উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল,জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী,নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা,খুলনা মহানগর বিএনপি'র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ।
বক্তারা খুলনার ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৮৪২ সালে ভৈরব ও রূপসা নদীবেষ্টিত নয়াবাদ থানা ও কিসমত খুলনাকে কেন্দ্র করে মহকুমা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশদের প্রশাসনিক সুবিধা ও ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে মাত্র ৪০ বছরের ব্যবধানে ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল ৪ হাজার ৬৩০ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে খুলনা। তৎকালীন যশোর জেলার মহকুমা থেকে উন্নীত হওয়া এই জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ব্রিটিশ শাসক ডব্লিউ এম ক্লে। বর্তমানে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা নিয়ে গঠিত এই বিশাল জনপদ আজ বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি।
খুলনাবাসীর জন্য আজকের এই দিনটি ছিল কেবল একটি তারিখ নয়, বরং শেকড় ও ঐতিহ্যের সন্ধানে এক অনন্য উৎসব।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page