
মোঃ তারিকুল ইসলাম :
ইরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার। ঠিক সেই মুহূর্তে, নিচের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক সাধারণ গ্রামবাসী তার রাইফেল তুলে নেন। লক্ষ্য স্থির করেন আকাশের দিকে—আর একের পর এক গুলি ছুঁড়তে থাকেন।
কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটি। ভয় নয়, আতঙ্ক নয়—বরং তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা আর অদম্য সাহস। সে চিৎকার করে বাবাকে বলছিল— “বাবা, গুলি করো! এখনও পড়েনি! গুলি করো!”
সম্প্রতি ইরানের টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই হৃদয়বিদারক অথচ সাহসিকতায় ভরা কাহিনী। হেলিকপ্টারটি যখন আগুনে জ্বলতে জ্বলতে মাটিতে আছড়ে পড়ে, তখন সেই ছোট্ট মেয়েটির চোখে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা—যেন প্রতিশোধ আর প্রতিবাদের আগুন।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে—একটি শিশুর মনে এমন তীব্র আক্রোশ কেন?
সাক্ষাৎকারে মেয়েটি নির্ভীক কণ্ঠে জানায়, তার এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে গভীর বেদনা। মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় বহু নিরীহ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার ঘটনা তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সেই শোক, সেই ক্ষোভই তাকে কঠোর করে তুলেছে।
সে আরও বলে, তার এই লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি তার দেশ, তার বিশ্বাস এবং তার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাও তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
আজ এই ছোট্ট মেয়েটি ইরানে এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে—সাহস, দেশপ্রেম এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে। তার কণ্ঠে উচ্চারিত সেই ডাক—“বাবা, গুলি করো!”—শুধু একটি মুহূর্তের উচ্ছ্বাস নয়, বরং একটি জাতির বেদনা, ক্ষোভ ও আত্মমর্যাদার প্রতিধ্বনি।
এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যুদ্ধের সবচেয়ে গভীর ক্ষত পড়ে শিশুদের হৃদয়ে। আর সেই ক্ষত থেকেই কখনও জন্ম নেয় অদম্য সাহস, আবার কখনও জন্ম নেয় অনন্ত প্রশ্ন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page