
মোঃ তারিকুল ইসলাম :
বর্তমান সময়ে মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করা যেন এক নতুন সংগ্রামের নাম। পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তাও আবার মাত্র ২০০ টাকার তেল! এই বাস্তবতা শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই নয়—এটি ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
🔹 সময়ই এখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি
একজন কর্মজীবী মানুষ যখন অফিস বা কাজ ফেলে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তিনি শুধু সময়ই নষ্ট করছেন না—তার উৎপাদনশীলতাও কমে যাচ্ছে। যে সময় তিনি আয় করতে পারতেন, সে সময় ব্যয় হচ্ছে অপেক্ষায়।
🔹 আয়ের উপর সরাসরি প্রভাব
দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ—যেমন ডেলিভারি রাইডার, ফ্রিল্যান্সার, ছোট ব্যবসায়ী—তাদের জন্য এই সংকট আরও ভয়াবহ। কম তেল মানে কম কাজ, আর কম কাজ মানেই কম আয়।
🔹 মানসিক চাপ ও হতাশা বৃদ্ধি
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া মানুষের মধ্যে হতাশা, রাগ ও মানসিক চাপ তৈরি করছে। এটি সামাজিক অস্থিরতারও একটি কারণ হতে পারে।
🔹 রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
যখন দেশের একটি বড় অংশ কর্মঘণ্টা হারায়, তখন সামগ্রিক উৎপাদন কমে যায়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই ক্ষতিগুলো মিলেই জাতীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়, এবং দেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
🔹 সমাধান কী?
✔️ জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা
✔️ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা
✔️ বিকল্প জ্বালানি ও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ
✔️ দীর্ঘ লাইনের পরিবর্তে ডিজিটাল টোকেন বা সময়ভিত্তিক সিস্টেম চালু করা
শেষ কথা:
একজন মানুষের এক ঘণ্টা নষ্ট হওয়া হয়তো ছোট বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু লক্ষ মানুষের একই সমস্যা একটি দেশের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
মো: তরিকুল ইসলাম খান
ইকোনমিক ও ফিনান্স এক্সপার্ট।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page