সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোছাঃ সেলিনা বেগম (৩৭) নামে এক গৃহবধূ। তবে এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিবাদী পক্ষ পাল্টা অভিযোগ তুলেছে যে, এর নেপথ্যে ওই গৃহবধূর ফুফা খলিল মিয়ার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ‘বিয়ে সিন্ডিকেট’ কাজ করছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস আগে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোঃ শাহজালালের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সেলিনার। সেলিনার দাবি, বিয়ের পর থেকেই ২ লক্ষ টাকা দেনমোহর ও অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে স্বামী শাহজালাল ও শ্বশুর সরব আলী তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন। এমনকি গত রমজানের আগে তাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মতে, অভিযুক্ত শাহজালাল ও তার বাবা সরব আলী এলাকায় সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, সেলিনার ফুফা খলিল মিয়া মূলত তাকে ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। সরল মানুষদের টার্গেট করে বিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এই চক্রের কাজ।
স্বামী ও সাবেক স্বামীর চাঞ্চল্যকর তথ্য
অভিযুক্ত স্বামী শাহজালাল মুঠোফোনে জানান, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন সেলিনার বয়স কাগজে ৩৭ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ৪৫ বছর এবং এটি তার চতুর্থ বিয়ে। এমনকি আগের সংসারে তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন:
"খলিল মিয়া প্রায়ই আমাদের বাসায় এসে বসে থাকতেন। পরে জানতে পারি তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেলিনা মাজারের ফকিরদের মতো টিকটক করে মানুষকে বিভ্রান্ত করত। খলিল মিয়া নিজেও ৩-৪টি বিয়ে করেছেন।"
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেলিনার ৩ নম্বর স্বামী মান্নান দাবি করেছেন, তার সাথে সেলিনার এখনো কাগজ-কলমে বিচ্ছেদ হয়নি। মান্নান জানান, বিয়ের এক মাস পর খলিল মিয়া বেড়ানোর কথা বলে সেলিনাকে নিয়ে যান। এর ১৫ দিন পর শাহজালালের ফোন থেকে সেলিনা তাকে ফোন করে পুনরায় মান্নানের সাথে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পুলিশে অভিযোগ দিলেও ব্যক্তিগত আলাপে সেলিনা বেগম জানিয়েছেন, তিনি শাহজালালের সাথেই সংসার করতে চান। তার এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, খলিল মিয়ার চাপেই তিনি এমন বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
গ্রামবাসীর দাবি, খলিল মিয়া বেলপুড়ির ব্যবসা করলেও মূলত সিন্ডিকেট চালানোই তার মূল কাজ। তার কথায় ও কাজে কোনো মিল নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সরব মিয়া বলেন, "খলিল মিয়া আমাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
অন্যদিকে, খলিল মিয়া দাবি করেন, তিনি কেবল তার ভাতিজির সংসার টিকিয়ে রাখতেই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
নবীনগর থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো বিশেষ চক্র বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page