
মোঃ গোলাম রাব্বানী-স্টাফ রিপোর্টার :
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ডাকবাংলো মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে। বুধবার রাত ৯টার দিকে বাটা জুতার দোকানের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে মাসুম বিল্লাহ ডাকবাংলা মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাতক আটক ও অস্ত্র উদ্ধার: গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ও উপস্থিত জনতার তৎপরতায় অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাসুমকে গুলি করে পালানোর সময় ট্রাফিক বিভাগের এক ইন্সপেক্টর সাহসিকতার সাথে ঘাতক অশোককে আটক করেন। এসময় উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিতে চাইলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা সদর থানায় নেওয়া হয়।"
নিহতের পরিচয়: নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উল্লেখ্য যে, নিহত মাসুম বিল্লাহর বড় ভাই এবং রূপসার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। মিনা কামালও ওই অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি: হত্যাকাণ্ডের পর খুলনা মহানগরী এবং রূপসা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page