
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন-এ সরকার পরিচালিত ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি এ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভোটের রাজনীতি করা হচ্ছে, ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগের বিবরণ
এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা “ধানের শীষ” প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেককেই ওএমএস কার্ডের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে জানানো হয়েছে—“ধানের শীষে ভোট দিলে কার্ড মিলবে না।” অন্যদিকে “চিংড়ি মাছ” প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে পরিচিত বা সমর্থক হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। ভোট যার যার মতো দিয়েছি। কিন্তু এখন চাল নিতে গেলে বলা হচ্ছে, আপনার নাম তালিকায় নেই। অথচ পাশের বাড়ির লোক, যারা অন্য প্রতীকে ভোট দিয়েছে বলে পরিচিত, তারা কার্ড পেয়েছে।”
ওএমএস কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা
ওএমএস কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ। বাজারদর বৃদ্ধি বা খাদ্যসংকটের সময় নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির মাধ্যমে তাদের আর্থিক চাপ কমানোই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। নীতিমালা অনুযায়ী, দল-মত নির্বিশেষে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করার কথা।
কিন্তু যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা ভোটের ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করা হয়, তাহলে কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
সাংবাদিকদের ‘হুমকি’ অভিযোগ
ঘটনাটিকে ঘিরে আরেকটি উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান বা সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করলে তাদের “দেখে নেওয়া হবে” বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এক সাংবাদিক বলেন,
“সরকারি সুবিধা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু যদি এ নিয়ে প্রতিবেদন করতেই হুমকি আসে, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একইসঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাই করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি
এলাকাবাসী মনে করেন,
সরকারি সুবিধা বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ওএমএস কার্ড প্রদানে স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি সহায়তা কর্মসূচি যেন রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে—এই প্রত্যাশাই এখন সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page