
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
গোল চত্বরের একপাশে বসে আছে দুই ভাই-বোন। ভাই হাবিব বয়স ৫-৬ বছর হবে এবং বোন এখনো মুখফুটে কথা বলতে পারে না। ভাই তার ছোট বোনকে চিপস খাওয়ায় দিচ্ছে। চিপস শেষ হলে তাদের মুখে এক প্রশান্তির হাসি দেখা যায়।
সড়কের ধুলোয় যেখানে টেকা দায়, সেখানেই তাদের ভালোবাসার গল্পের বুনন।
পথচারীরা তাদের ভালোবাসা এক পলক তাকিয়ে দেখছে। পথের ব্যস্ততা মাড়িয়ে কেউ কেউ আবার তাদের দিকে এগিয়ে আসে। স্বার্থপরতার পৃথিবীতে এমন ভালোবাসা আজ বড় বিরল।
শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মোড়ে দেখা মেলে হাবিব ও ফাতেমার। তারা পাশেই বেতবাড়িয়া এলাকায় থাকে। পিতা মারা গেছেন। মা কখনো কাজ করে আবার কখনো হাত পেতে সংসার চালায়।
কয়েকদিন ধরে তাদের মা অসুস্থ। আর মায়ের দায়িত্ব এসে পড়েছে তাদের ঘাড়ে।
পথের ধুলোর মতো তাদের দুজনের জীবনের গল্পটাও যেন ধুলোমাখা। মা অসুস্থ থাকায় এই ছোট্ট বয়সে সংসারের কাঁধে দায়িত্বের ভার এসে পড়েছে। লক্ষ্য একটাই স্বার্থপরতার পৃথিবীতে টিকে থাকা।
প্রতিদিন দুই ভাই-বোন মিলে বাজারের জন্য ২০০ ও মায়ের ওষুধের জন্য ২০০ টাকা খরচ জোগাড় করা।
সকাল গড়িয়ে বিকেলের গোধূলী কোনোকিছুই তাদের ক্লান্ত করতে পারেনা।
সরেজমিন দেখা যায়, তাদের কারোর কাছে হাত পাততে দেখা যায়নি। লোকজন এমনিতেই সাধ্যমতো ১০-২০ টাকা তাদেরকে দিয়ে যাচ্ছে। এতেই তারা খুশি মনে কী যেন বিড়বিড় করছে। এসবের ফাঁকেও বোনের যত্ন নিতে ভুলছেন না। আবার তারা কখনো কখনো দুষ্টুমিতে মাতছেন।
ছোট্ট হাবিব বলেন, ধুলোবালিতে বসে তারা মানুষের সহায়তা নিচ্ছি।
খাবারের খরচ হিসেবে তাদের ২০০ টাকা দরকার। মার জন্য ওষুধ কিনতে দরকার আরো ২০০ টাকা। বাড়ি গিয়ে মাকে নিয়েই বাজারে যাবো। বেলা ৩টা নাগাদ তার হাতে ২১০ টাকা। তবে ৪০০ টাকা নিয়ে সে বাড়ি ফিরতে পারবে বলে জানায় সে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page