
সৌভিক পোদ্দার-ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহ জেলার কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে শৈলকুপা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। সাম্প্রতিককালে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু আধুনিক স্থাপত্যের উদাহরণ নয় বরং পরিবেশ সচেতনতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে "১০০ টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন" প্রকল্পের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচতলা একাডেমিক ভবন ও চারতলা প্রশাসনিক ভবন ইতিমধ্যেই আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। প্রশাসনিক ভবনে রয়েছে অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, সেমিনার হল, লাইব্রেরী ও স্কাউট কক্ষ, যেখানে শিক্ষক মন্ডলীর জন্য প্রত্যেক ফ্লোরে আধুনিক টয়লেট ও ওযুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের অংশ হিসেবে রয়েছে দুটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
একাডেমিক ভবনে রয়েছে ২০টি সুবিস্তৃত ও সুসজ্জিত শ্রেণীকক্ষ, প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, বৈদ্যুতিক সুবিধা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা ওয়াশ ব্লক। নিচতলায় আছে পাঁচটি অত্যাধুনিক ল্যাব, যা ট্রেড কোর্স অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
ক্যাম্পাসের নান্দনিক অবকাঠামো ও সার্ভিস শেড, ১০০কেভি সোলার সহ মোট ৪০০কেভি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার, পাকা রাস্তা এবং সুউচ্চ প্রাচীর প্রতিষ্ঠানের আধুনিক চেহারাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ৪০০ কেভি নিজস্ব বিদ্যুৎ যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ১ ষলাখ ৩৪হাজার ৫২০লিটার (৩৫হাজার ৫০০গ্যালন) ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রেইন ওয়াটার রিজার্ভ, যা পরীক্ষামূলকভাবে শুধুমাত্র টয়লেটে ফ্ল্যাশের কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। এটি প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশবান্ধব টেকসই উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য দায়িত্বশীল পরিবেশ সচেতনতা শেখানোর প্রতি গুরুত্ব দেয়।
প্রকল্পটির ২০২০ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত হয়েছে। প্রাক্কলিত খরচ প্রায় ১৭কোটি ৭১লাখ টাকা, যা দেশের প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে একটি বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।
শৈলকুপা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শুধু একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পরিবেশ সচেতন, শিক্ষার্থীবান্ধব এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রতীক। দেশের প্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নের পথে এটি সত্যিই একটি গর্বের ঠিকানা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page