
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
চরলাপাং এক শান্ত গ্রাাম হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে রক্তাক্ত হলেন গ্রামের একাধিক নিরীহ মানুষ। কিন্তু ঘটনার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত ও হামলার ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে পরিচিত ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েল রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—সাখাওয়াত পায়েল কি তবে প্রশাসনের চেয়েও শক্তিশালী?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু মহলের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের নির্দেশে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী চরলাপাং গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গ্রামবাসীদের ওপর গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
টাকার দাপট নাকি প্রশাসনিক দুর্বলতা?
হামলার সময় অস্ত্রধারীদের দাপট দেখে মনে হয়েছে তারা আইনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বালু মহলের অবৈধ আয়ের বিপুল অর্থ ব্যবহার করে পায়েল স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে হাতের মুঠোয় রেখেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
"আমাদের চোখের সামনে গুলি চলল, মানুষগুলো কাতরাচ্ছে, অথচ পায়েল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বালুর টাকার শক্তি কি আইনের চেয়েও বড়?" — ক্ষোভের সাথে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সাখাওয়াত পায়েলের রাজনৈতিক বা আর্থিক প্রভাবের কারণে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া মন্থর কি না—এমন প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই যদি এই 'বালু দস্যু' ও তার বাহিনীকে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে চরলাপাং গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page