
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে পরাজিত হয়েছেন। তাঁর এই পরাজয়ের পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত এবং রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কারণগুলোর মধ্যে:
দলীয় কোন্দল ও দীর্ঘকালীন অব্যাহতি: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিবাদে খুলনায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। যদিও নির্বাচনের আগে তিনি মনোনয়ন পান, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক দূরত্ব এবং দলের একটি অংশের নিষ্ক্রিয়তা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নতুন ভোটার ও তারুণ্যের প্রভাব: খুলনার ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন ও তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ গতানুগতিক ধারার রাজনীতির বাইরে বিকল্প খুঁজছিল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নতুন কৌশলের মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন, যেখানে মঞ্জুর পুরনো রাজনৈতিক ইমেজ কিছুটা ম্লান ছিল।
সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা: পদ থেকে অব্যাহতির কারণে গত কয়েক বছরে খুলনার মূল ধারার বিএনপির সাথে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারীদের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের সময় এই দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় সম্ভব হয়নি, যা মাঠ পর্যায়ের ভোট ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি তৈরি করে।
আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা: আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সরাসরি বড় অবস্থানে না থাকলেও, তাদের সমর্থক এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিবর্তে জামায়াতবিরোধী অবস্থানের চেয়েও ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন কোনো সমীকরণে ভোট প্রদান করেছেন অথবা ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দলীয় বিভক্তি এবং জামায়াতে ইসলামীর একক শক্তির উত্থানই ছিল তাঁর পরাজয়ের মূল নিয়ামক। এই ফলাফল খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিএনপি-আওয়ামী লীগ দ্বিমেরু রাজনীতির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page