
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষা শেষে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে এখন উৎসবের আমেজ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে খুলনার রাজপথ ও জনপদ এখন পোস্টার আর প্রচারণায় মুখর। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।
খুলনার আসনগুলোতে প্রধান দলগুলোর হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। ভোটারদের ভাষ্যমতে, অনেক আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।এক নজরে খুলনার ৬ আসনের সমীকরণ:
*খুলনা-১ দাকোপ-বটিয়াঘাটা আমির এজাজ খান (বিএনপি) ,কৃষ্ণা নন্দী (জামায়াত) এ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে তীব্র লড়াই হবে।
*খুলনা-২ সদর-সোনাডাঙ্গা নজরুল ইসলাম মঞ্জু (বিএনপি) ,শেইখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল (জামায়াত)।এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় এগিয়ে।
*খুলনা-৩ খালিশপুর-দৌলতপুর রকিবুল ইসলাম বকুল (বিএনপি) ,অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান (জামায়াত)।তরুণ নেতৃত্ব বকুলের পক্ষে গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
*খুলনা-৪ রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া আজিজুল বারী হেলাল (বিএনপি),মাওলানা সাখাওয়াত (জামায়াত সমর্থিত)।বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল জনসমর্থনে বেশ এগিয়ে।
*খুলনা-৫ ডুমুরিয়া-ফুলতলা মোহাম্মদ আলী আসগর লবী (বিএনপি) ,মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত)
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই আসনে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
*খুলনা-৬ কয়রা-পাইকগাছা এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (বিএনপি) , মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত) গ্রামীণ জনপদে দুই দলের মধ্যেই সমানে সমান লড়াইয়ের আভাস।
নির্বাচনী বিশ্লেষণ ও জনমত জরিপে খুলনার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত।
খুলনা-২ ও ৩ (শহর এলাকা): এই দুটি আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের জনসভাগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হাফেজ আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা) ভোট ব্যাংক হিসেবে ফ্যাক্টর হতে পারেন।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা): এখানে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রভাব দীর্ঘদিনের। সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজের কারণে তিনি এই আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আলী আসগর লবীও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন।
এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও 'জেনারেশন জেড' ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। তাদের রায়ই মূলত নির্ধারণ করবে খুলনার ভাগ্য।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খুলনার ১টি সিটি কর্পোরেশন ও ৯টি উপজেলায় বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট উৎসবের দিকে তাকিয়ে আছে খুলনার প্রায় ২০ লক্ষাধিক ভোটার। ব্যালট বক্সের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী ৫ বছরের জন্য খুলনার জনপ্রতিনিধি কারা হচ্ছেন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page