
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাধারণত সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশাসন ও গণমাধ্যম। একজন আইন প্রয়োগ করে। অন্যজন তথ্য তুলে ধরে। এই দুই পক্ষের কাজ সহযোগিতামূলক। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্ব পালনরত এক গণমাধ্যমকর্মীকে এক পুলিশ সদস্য লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। ওই সাংবাদিকের হাতে ছিল ক্যামেরা। তিনি কোনো অস্ত্রধারী ছিলেন না। হামলা বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন না বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাংবাদিকরা মাঠে কাজ করেন তথ্য সংগ্রহের জন্য। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অনেক সময় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বিক্ষোভ বা জনসমাবেশে পুলিশ ও সাংবাদিককে একসাথে কাজ করতে দেখা যায়। একজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যজন তা নথিবদ্ধ করেন। কিন্তু আলোচিত ভিডিওতে সেই সমন্বয়ের চিত্র দেখা যায়নি।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত। এতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। ক্ষমতার অপব্যবহার নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শারীরিক হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।
গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নন। তারা সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তাই নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এখন সবার নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page