
জুলফিকার আলী জুয়েল :
চারঘাট, রাজশাহীর স্থায়ী বাসিন্দা মো. শামীম ওসমান (২৭), পিতা শামসুল হক, বর্তমানে গাজীপুরের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর এলাকায় বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে সম্পদশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ধর্ষণসহ গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করিয়ে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম ওসমান আগে নিয়মিত সেরেবাংলা থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। ওই সময় তার স্ত্রী পরিচয়ধারী সুলতানা নামের এক নারী দিয়ে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশি তদন্তে মামলাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। ওই ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বর্তমান কোনাবাড়ী মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার জালাল মাহমুদ।
মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হওয়ার পর শামীম ওসমান আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘদিন তাকে আর কোনো থানার এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তবে হঠাৎ করেই সম্প্রতি তাকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার আশপাশে একাধিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনসহ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। থানার পাশের এক দোকানদার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, শামীমের এই আনাগোনা সন্দেহজনক মনে করে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। দোকানদারের ভাষ্যমতে, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাকে থানার আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছিল।
ওই সময় শামীম ওসমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাকে কেউ মারধর করেছে এবং সে কারণেই তিনি মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে থানায় এসেছেন। তবে কারা তাকে মারধর করেছে—এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় নতুন করে প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার জালাল মাহমুদ বলেন, শামীম ওসমানের অতীত কার্যক্রম ও আগের বানোয়াট মামলার বিষয়টি পুলিশের জানা রয়েছে। তিনি জানান, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, বানোয়াট মামলার অভিযোগে আত্মগোপনের পর আবার থানার আশপাশে তার উপস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page