
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনার সামগ্রিক সমৃদ্ধি এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে প্রার্থীরা খুলনার অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হন।
সংলাপে উপস্থিত বক্তারা খুলনার মৃতপ্রায় শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত করা, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং একটি আধুনিক ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে খুলনার মানুষের দীর্ঘদিনের অপূর্ণ দাবিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংলাপে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান:
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): এই আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান উপকূলীয় বাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং তীব্র সুপেয় পানির সংকট সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ওয়াহিদ উজ জামান এবং বিএনপির আমির এজাজ খান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস দেন।
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা): জলাবদ্ধতা নিরসন ও আবাসন সমস্যার ওপর জোর দেন প্রার্থীরা। বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল একটি 'ডিজিটাল খুলনা' গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খুলনা-৬: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মোঃ আসাদুল্লাহ ফকির বলেন, তাদের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের সেবার জন্য।
খুলনা-৩: এই আসনের প্রার্থীরা শিল্পনগরী খুলনার বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা এবং শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ের বিষয়ে প্রার্থীরা জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন।
খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "খুলনাকে এখন অন্ধকার সিটি বলা যায়। মাদক ও খুনের ঘটনায় শহরটি এখন খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে। খুলনার প্রথম সারির অনেক নাগরিক এখন নিরাপত্তার অভাবে ঢাকাবাসী হয়ে গেছেন।" তিনি আরও জানান, বিএনপি খুলনায় ন্যায়ভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যা শীঘ্রই জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
গণমাধ্যম কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই সংলাপ একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সংলাপে সুধীজনরা প্রার্থীদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানান। খুলনার সাধারণ মানুষ এখন প্রত্যাশা করছেন, প্রার্থীদের এই মৌখিক অঙ্গীকারগুলো কেবল নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকবে না, বরং নির্বাচনের পর বাস্তবে রূপান্তরিত হবে।
অনুষ্ঠানে খুলনার স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আলোচনার গভীরতা বাড়িয়ে তোলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন,এনামুল হক: আহ্বায়ক, খুলনা প্রেসক্লাব,রাশিদুল ইসলাম: সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে), খুলনা,অধ্যক্ষ রেহেনা আক্তার: বিএনপি নেত্রী,নূরুল হাসান রুবা: সাবেক সভাপতি, জাতীয়তাবাদী খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি,এডভোকেট ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক: বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রকৌশলী,তারিকুল ইসলাম জহির: ভাইস-চেয়ারম্যান, খুলনা ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্ট এসোসিয়েশন।
খুলনা উন্নয়ন কমিটির একটি প্রতিনিধি দল এই সংলাপে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর ইমাম (শিক্ষাবিদ),নিজাম রহমান লালু (উন্নয়ন কমিটি নেতা),অধ্যাপক মোঃ আবুল বাশার (সহ-সভাপতি, উন্নয়ন কমিটি ও সাংবাদিক),মিজানুর রহমান বাবু ও মামনুরা জাকির খুকুমণি,মোঃ খলিলুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব ,মনিরুজ্জামান রহিম, মনিরুল ইসলাম মাস্টার, কোষাধাক্ষ শেখ গোলাম সরোয়ার, আরিফ নেওয়াজ এবং রকিব উদ্দিন ফরাজীসহ উন্নয়ন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page