প্রবাসী ভোটে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, জামায়াতের বিরুদ্ধে গুরুতর আশঙ্কা
সম্পাদকীয় -
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে এ উদ্যোগকে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ও আশঙ্কা সামনে এসেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাহারাইন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশে ব্যালট পেপার ছাপানো ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর তথ্য মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেভাবে পূর্বে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, একই কৌশলে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রভাব ফেলতে পারে। এতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, এবার ব্যালট পেপারের নকশা ও চিহ্ন এমনভাবে করা হয়েছে যে প্রার্থীদের মার্কা শনাক্ত করতে ভোটারদের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অতীতে যেভাবে ব্যালট পেপার সরল ও স্পষ্ট ছিল, এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কী প্রক্রিয়ায়, কার সঙ্গে আলোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ বিষয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাই অবগত নন।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, জামায়াতে ইসলামী দেশের মোট ভোটের প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ প্রভাব রাখে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কীভাবে ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা যায়—সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। অন্যদিকে, অনেক দল নিরুপায় হয়ে কেবল গণমাধ্যমের খবরের দিকেই তাকিয়ে আছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, আগামী ২২ তারিখ থেকে এ বিষয়ে সব দল সরব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ত্রুটি-বিচ্যুতি জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন যদি কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা কালক্ষেপণ ঘটে, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের পর জামায়াতে ইসলামী যে সুযোগটি সামনে পেয়েছে, তা যদি তারা নেতিবাচক পথে ব্যবহার করে, তবে দলটির অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে—এমন মতও দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক।
ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী বা সমমনা দলগুলো আসন্ন নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩০টি আসন পেতে পারে। এই সম্ভাব্য আসনসংখ্যা তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page