
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের কানাইপুর বাজারে সারের ডিলারদের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্বেও কোন প্রকার আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না স্থানীয় প্রশাসন। ফলে কোন কিছুই তোয়াক্কা না করেই বছরের পর বছর সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতিটা কৃষকের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা। এতে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক আরেক দিকে ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের ভাব ভাবমূর্তি।
ফরিদপুর জেলার কৃষি তথ্য মতে এ জেলায় ডিএপি (DIP) সারের বরাদ্দ অনুযায়ী সংকট নেই বললেই চলে। কিন্তু ফরিদপুর জেলার কানাইপুর বাজারে বিসিআইসি সারের ডিলার মেসার্স অগ্রানী ভান্ডার কমল দত্ত ও পদ্মা ট্রেডার্স সুনিল দত্ত বিসিআইসি ডিলার থাকা সত্ত্বেও তারা (DIP) সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তা (DIP) সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা,হলেও সেখানে তারা বিক্রি করছেন ১ হাজার ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে কখনো কখনো ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন প্রকার সারের নির্ধারিত মূল্য থেকেও দাম বেশি নেয়ার অভিযোগে এনে গত ১০ ডিসেম্বর দুপুরে শত শত কৃষক সারের নির্ধারিত মূল্যের উর্ধ্বে দাম নেয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করে পদ্মা ট্রেডার্স ও মেসাস অগ্রণী কৃষি ভান্ডারের মালিক পক্ষকে কৃষকরা ঘেরাও করে রাখে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক উত্তপ্ত জনতা কে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে একপর্যায়ে সকল কৃষক সরকারের নির্ধারিত মূল্যই সার পাওয়ার আশ্বাস পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সবাই চলে আসে।
সরজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা গেছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা কমল দত্ত ও সুনীল দত্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে সাধারণ কৃষকরা রীতিমতো জিম্মি হতে হচ্ছে। এদিকে কৃষক নবীয়াল সাংবাদিকদের কে জানান, যে কমল দত্ত যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন ওই দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে সঙ্খতা গড়ে তোলেন এরপর সেই সুযোগে বুঝে বেশিরভাগ স্যারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা তার নিত্যদিনের কৌশল। এছাড়াও সাধারণ কৃষকদের ভাষ্যমতে বারবার তারা মুখ খুলতে চাইলেও কমল দত্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ কারণেই তারা যে সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন সর্বদাই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার ভুয়া কীটনাশক ঔষধ সামগ্রী বিক্রির কথা। যেটা কিনা সম্প্রতি সময়ে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছিল।
এদিকে মেসার্স অগ্রণী ভান্ডারে সারের ডিলার কমল দত্ত এর ব্যবহারকৃত মুঠোফোনটি তে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি বারবার কেটে দেন একারনেই তার বক্তব্য দেয়ার সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক অর্ধ শতাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, কানাইপুরের এলাকার কৃষকরা সার কিনতে গিয়ে এক প্রকার জিম্মির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। সরকার যেখানে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি দিচ্ছে, আর সেখানে পদ্মা ট্রেডার্স ও মেসাস অগ্রণী কৃষি ভান্ডারের অসাধু ডিলাররা দিনের পর দিন কৃষকদের পকেট কেটে নিচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু কৃষকদের সর্বস্বান্ত করছে না, বরং সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাজারে এই নৈরাজ্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনটাই এখন জেলাবাসীর প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহারকৃত ফোনটি বারবার বন্ধু পাওয়া যায়।
তবে এ বিষয়ে কথা হয় ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সায়েদুজ্জামান বিপ্লব তিনি সাংবাদিকদের কে বলেন, মেসার্স অগ্রণী ভান্ডার এর বিরুদ্ধে এর আগেও তথ্য এসেছিল যেহেতু আপনি আজকে জানালেন আমরা
বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page