
সুমন খান :
রাজধানীর মিরপুরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তথাকথিত মাজার পূজা ও কুসংস্কারভিত্তিক কার্যকলাপ। প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও গাছের নিচে মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি দেওয়া ও ফুল ছিটিয়ে গাছকে সালাম করার মতো স্পষ্ট শিরিকের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার, জুমার নামাজের সময় এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়ে মুসল্লি ও স্থানীয়দের চোখে। সরেজমিনে দেখা যায়—একটির পর একটি যুবক ও যুবতী গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন এবং গাছকে সালাম করে নীরবে চলে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ওই স্থানেই টানানো রয়েছে বড় করে লেখা, কোনো প্রকার মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালানো ও ফুল দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিরিক করা হারাম।তবুও যেন সেই লেখা কারও চোখে পড়ছে না, কিংবা কেউ তা মানতে আগ্রহী নন।স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, জুমার নামাজের পবিত্র সময়ে এমন দৃশ্য দেখে তারা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। এক মুসল্লি বলেন,এটা স্পষ্ট শিরিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কাছে মাথা নত করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। প্রকাশ্যে এমন কাজ চললেও কেউ বাধা দিচ্ছে না এটা দুঃখজনক।অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র এই ধরনের কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে ‘মনস্কামনা পূরণ’ কিংবা ‘ভাগ্য পরিবর্তনের’ আশ্বাস দিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে টেনে আনা হচ্ছে।
ধর্মীয় আলেমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন,গাছ, মাজার কিংবা কোনো জড় বস্তুকে সম্মান দেখানোর নামে ইবাদতের আচরণ করা সরাসরি শিরিক। এটি ইসলামের মৌলিক আকিদার পরিপন্থী।এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ, নিয়মিত তদারকি ও ধর্মীয় সচেতনতামূলক প্রচারণার দাবি জানিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কে বা কারা এই শিরিকের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখছে?
আর প্রশাসন কবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে?মিরপুরের এই চিত্র শুধু একটি এলাকার নয় এটি সমাজে ছড়িয়ে পড়া ভয়ংকর কুসংস্কারের প্রতিচ্ছবি, যা এখনই রোধ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page