
রায়হান শেখ-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় জমি–জমার নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিলতায় আটকে থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ২০০৯ সালের বিআরএস জরিপের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় উপজেলার জেএল নং ৫২, গাড়ফা মৌজায় এসএ জরিপকে সর্বশেষ রেকর্ড ধরে নামজারি করা হচ্ছে। কিন্তু এসএ জরিপে মালিকদের অংশ নির্ধারণ না থাকায় প্রায় রেকর্ডীয় সব প্রজাদের সমান অংশ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত মালিকরা দালাল–ভূমিদস্যু চক্রের হয়রানি, দীর্ঘমেয়াদি মামলা ও জমি দখলের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।চিকিৎসা, বিবাহ, ব্যবসা—সবই স্থবির।ভুক্তভোগীরা জানান—জরুরি চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন,মেয়েদের বিবাহ স্থগিত,বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত,খাজনা ও জমি বিক্রি–ক্রয় কার্যক্রমে বিপত্তি তৈরি হচ্ছে।
গাড়ফা গ্রামের রাজিব চৌধুরী বলেন— “সিএস জরিপে মালিকানার অংশ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এসএ জরিপে অংশ না থাকার কারণে ২ শতাংশ এবং ১০০ শতাংশ জমির মালিককে সমান অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের প্রতি বড় অন্যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সত্তার চৌধুরী জানান— “ ভূমি অফিসে দালাল ও ভূমিদস্যুরা মারাত্মক দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছে।
তারা কয়েক দফা টাকা নিয়ে মিউটেশন করবে বলে প্রতারণা করছে।
২০০ বছরের পৈতৃক ভিটে–মাটি দখলের চেষ্টা চলছে।
মামলা বহু বছর ধরে চলছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”তিনি আরও জানান“ উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় নামজারী খারিজের আবেদন করেছি (আমার চাচাতো ভাই বাদী); ভূমি অফিসে বারবার টাকা দিয়েছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চুনখোলা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মোড়ল শুধু আজ–কাল বলে ঘুরাচ্ছেন।”ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মোড়ল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুষ্মিতা সাহা বলেন—“আইন অনুযায়ী সর্বশেষ রেকর্ডই অনুসরণ করতে হয়। এসএ বা বিআরএস ছাড়া অন্য কোনো রেকর্ডের ভিত্তিতে নামজারি করা সম্ভব নয়।”
দীর্ঘমেয়াদি বাটোয়ারা মামলা জনগণ অতিষ্ঠ।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন—ভূমি অফিস আদালতে যেতে বলছে,বাটোয়ারা বা অংশ ভাগের মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে,এতে সাধারণ মানুষ দালাল, ভূমি অফিস ও আদালতের জটিলতায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
দ্রুত ২০০৯ সালের বিআরএস জরিপের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।সিএস রেকর্ডকে / দলীলপত্র দেখে নাম জারী বা মিউটেশন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে বলে মনে করেন ৫২ নং গাড়ফা মৌজার সাধারণ মানুষ। সরকারকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page