
মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম :
প্রবাসীরা অনেকেই বাপের জমি বিক্রি করে, এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে, দালালের মাধ্যমে বিদেশে পাড়ি জমান—একটি ভালো ভবিষ্যতের আশায়। সেখানে অদক্ষ ও অশিক্ষিত হওয়ায় অনেকে ঠকেন, কষ্টে জীবন কাটান। রোদে পুড়ে, আধপেটে খেয়ে, গাদাগাদি করে ঘুমিয়ে বছরের পর বছর হাড়ভাঙা শ্রম দিয়ে উপার্জিত টাকা দেশে পাঠান পরিবারের স্বাবলম্বীতার জন্য।
অবশেষে দেনা শোধ করে, সামান্য সঞ্চয় নিয়ে যখন মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন—বাবা, ভাই, সন্তানদের জন্য দুইটি ফোন, কিছু সুগন্ধি বা কসমেটিকস নিয়ে দেশে ফেরেন। বাড়ির মানুষ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে—বিদেশফেরত প্রিয়জন কী আনছে।
কিন্তু এই দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসলই দেশের বিমানবন্দরে এসে অনেক সময় হারিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে—হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে বছরের পর বছর লাগেজ কাটাকাটি ও চুরির ঘটনা ঘটছে। ভিডিওতে দেখা যায়—প্রবাসীদের কান্না, বিহ্বল আর্তনাদ; অথচ ধরা পড়ে না কোনো চক্র, শাস্তিও হয় না কারো। হাজারো সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও চোর শনাক্তের দেখেশুনে সন্ধান নেই।
যদি কেউ নিষিদ্ধ বা অতিরিক্ত পণ্য বহন করে—তখন তা আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ ও ব্রিফিং হতে পারে। কিন্তু লাগেজ ভেঙে সাবান, শ্যাম্পু, লোশন, মোবাইল ফোন বের করে নেয়ার অভিযোগ প্রবাসীদের আস্থা ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অথচ দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই প্রবাসী আয়।
সরকার বদলায়—বিএনপি, আওয়ামী লীগ, ইন্টারিম—কিন্তু বিমানবন্দরের লাগেজ চুরি বন্ধ হয় না। তাই অনেকেই দাবি তুলছেন, কঠোর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার। কেউ কেউ এমনকি বিমানবন্দর বিদেশি ব্যবস্থাপনায় দিলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলেও মত দিচ্ছেন।
প্রবাসীরা চান—চুরি বন্ধ হোক, দায়ীদের শাস্তি হোক, সম্মান রক্ষা পাক দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page