
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ইসিবি চত্বরে জমি ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন এবং তার প্রতিষ্ঠান নিউ গিনি প্রপার্টিজ-এর বিরুদ্ধে জমি দখল, কোটি টাকার লেনদেন আত্মসাৎ, প্রতারণা, ভুয়া প্রতিশ্রুতি, প্লট আটকে রাখা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
কোটি টাকার বিনিময়েও প্লট নেই—উল্টো হুমকি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বহু ক্রেতা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রদান করলেও এখনো প্লট পাননি। কেউ কেউ কাগজপত্রও হাতে পাননি। টাকা ফেরত চাইলে নাজিমুদ্দিনের লোকজন হুমকি ও মামলা করার ভয় দেখাচ্ছে।
ভুক্তভোগী আমির বলেন, “শেষ সম্বল দিয়ে জমি কিনলাম, আর আজ আমাদেরই ভয় দেখাচ্ছে।”
হোসেন মোস্তফার অভিযোগ, “প্লট দেখায়ে টাকা নিলো। বললো অপেক্ষা করেন। ২ বছর হয়ে গেল—প্লট নাই, টাকা নাই, বরং উল্টো লোক পাঠায় ভয় দেখায়।”

জমির মালিকদের অভিযোগ—টাকা না দিয়েই দখল। জমির মালিক মুকুল ও সিরাজ জানান, নাজিমুদ্দিন টাকা পরিশোধ না করেই তাদের জমি দখল করে রেখেছেন। দাবি করলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিনের জমিতে ‘দখল পাঁয়তারা’
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ৩৫ কাঠা জমির চারপাশে টিনের বাউন্ডারি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশ পথ দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এলাকায় একটি চক্র সক্রিয়। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি দেওয়া হয়।”
ব্লকের কাজ বন্ধ ও জোর–জবরদস্তির অভিযোগ
ক্রেতাদের দাবি, নাজিমুদ্দিন তার প্রভাব দেখিয়ে আশপাশের ব্লকের কাজ পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। অনুমতি ছাড়া কেউ কাজ করতে পারে না বলে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
এ ছাড়া স্কয়ার ফিট ২২০০ টাকার রেট ২৫০০ টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজনের টাকা নিয়ে জমি অন্যজনকে বিক্রি—অভিযোগ আরও বিস্ফোরক
অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন, টাকা নেওয়ার পর তাদের প্লট অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে মামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের ক্ষোভ ও অসহায়তা
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বলেন, “সারা জীবন দেশের জন্য কাজ করেছি। অবসরে শান্তিতে থাকার জন্য জমি কিনেছিলাম। এখন হুমকি–ধমকি শুনতে হচ্ছে।”
উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জমি দখল ও প্রতারণার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জরুরি তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page