
নাসরিন আক্তার :
ভায়াল ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালের এই দিনে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় "সিডর " আঘাত হানে বরগুনা পটুয়াখালী উপকূলীয় এলাকায় এর মধ্যে দিয়ে বরগুনা মাঝের চর এলাকায় মৃত্যুপুরীতেরুপ নিয়েছে। ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সহায়সম্বল ও স্বজন হারানো মানুষগুলো ফিরে যেতে পারেনি তাদের স্বাভাবিক জীবনে। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য আজও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সিডরের ছোবলে দক্ষিণের উপকূলীয় জেলাগুলো বরগুনা মাঝের চর অন্যতম । মাঝের চরে মানুষ প্রিয়জনকে হারিয়ে এখনো এই দিন আসলে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। সিডরের ক্ষতচিহ্ন বহন করে চলেছেন অনেকে। তবে যারা সিডরের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন।
২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সারা দেশের আকাশ ছিল মেঘলা। আবহাওয়াবিদরা প্রথমে ৫ নম্বর সংকেত দিতে থাকেন। রাতে তা ৮ নম্বর বিপদ সংকেতে গিয়ে পৌঁছায়, বরগুনা মাঝে চরের সাথে ছিলো না কোন যাতায়াতের ব্যবস্থা বিপদ সংকেকে কথা অনেকে জানতো না। ১৫ নভেম্বর সকালে ঘোষণা করা হয় সিডর নামের ঘূর্ণিঝড় ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলে। দুপুর নাগাদ তা বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করবে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

এই মহাবিপদ সংকেতের কথা শুনে আতঙ্কিত মানুষ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। সচেতন কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করলেও বেশির ভাগ মানুষ থেকে যায় নিজ বাড়িতে। রাত ১০ টার দিকে প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুক্ত হলো জলোচ্ছ্বাস। অবশেষে এটি বাংলাদেশে আঘাত হানে ১৫ নভেম্বর রাত ৯টায়।
নিমেষেই উড়ে গেল ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা। বঙ্গোপসাগরের সব পানি যেন যমদূত হয়ে ভাসিয়ে নিল হাজার হাজার মানুষ ও তাদের স্বপ্ন । মাত্র কয়েক মিনিটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল গোটা এলাকা। পরের দিন দেখা গেল চারদিকে শুধুই ধ্বংসলীলা। উদ্ধার করা হলো লাশের পর লাশ। দাফনের জায়গা নেই, রাস্তার পাশে গণকবর করে চাপা দেওয়া হলো বহু হতভাগার লাশ। স্বজন আর সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল উপকূল এলাকার কয়েক লাখ মানুষ।
বরগুনা মাঝের চরের স্বপন হাওলাদার বলেন, আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাইকে কেড়ে নিয়েছে ভায়াল সিডর আজ ও আমাকে ঘুমাতে দেওয় না। পানিতে আমার সামনে থেকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আমার স্ত্রী, ছেলে,মেয়েকে আমাকে একা করে রেখে চলে গিয়েছে।
মাঝের চারের চম্পা বলেন, আমাদের পরিবার থেকে ১১ জনকে হারিয়েছি। এখন বন্যার কথা শুনলে বুকটা ফেটে যায় আমাদের সাইক্লোন সেন্টার ভালো নেই, নেই কোন বেরিবাদ আমরাতো মানুষ আমারা সবার মত বাঁচতে চাই।
সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩০ জেলার ২০০ উপজেলা। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বলা হয় ৩৩৬৩ জন। তবে বেসরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page