
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু-র নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনা। রাজনৈতিক মাঠে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম এই মাজেদ বাবু—যিনি একদিকে দীর্ঘদিন বিএনপি’র সক্রিয় নেতা, অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির মামলার অভিযোগের কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে।
দুদকের মামলার অভিযোগ
বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিক মামলা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওইসব মামলার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮১২ কোটি টাকা, যা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে এ বিষয়ে দুদক কিংবা আদালতের সাম্প্রতিক কোনো রায় বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ঈশ্বরগঞ্জ বিএনপি’র রাজনীতিতে মাজেদ বাবুর অবস্থান সবসময়ই প্রভাবশালী। দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা এই নেতা সম্প্রতি দলের উচ্চপর্যায় থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের একটি অংশ তাঁর নেতৃত্বকে “সংগঠনের পক্ষে শক্তিশালী” হিসেবে দেখছে, অন্য অংশ আবার দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিএনপি’র স্থানীয় নেতাদের একাংশ জানিয়েছেন, “দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তা মেনে নিয়েছি, তবে অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।”
অন্যদিকে, মাজেদ বাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, “দল ও এলাকার উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
জনমত ও প্রতিক্রিয়া
ঈশ্বরগঞ্জের সাধারণ জনগণের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, “যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তবে এমন ব্যক্তিকে প্রার্থী করা দলীয় ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।” আবার অনেকেই মনে করছেন, “তিনি এলাকার জন্য কাজ করেছেন, তাই তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযোগ ও বিতর্ক নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ—কীভাবে তাঁরা প্রার্থীর ভাবমূর্তি রক্ষা করবেন এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করবেন।
উপসংহার
প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হবে কিনা, তা নির্ধারণ করবে আদালত ও তদন্ত সংস্থা। তবে আপাতত এই বিতর্কই ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনের নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page