
নিজস্ব প্রতিনিধি :
মিরপুর প্রেসক্লাবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আওয়ামী লীগ-সংযুক্ত কোনো কমিটি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের নেতা ও গণজমায়েত থেকে। একাধিক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদেরই প্রেসক্লাবের বৈধ কমিটি দাবি করছে; পক্ষপ্রতিপক্ষের অভিযোগ-প্রতিযোগিতায় মোড়া এই পরিস্থিতিতে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম কঠিনভাবে প্রভাবিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী।
কি ঘটেছে — সংক্ষিপ্তসারে
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় মিরপুর প্রেসক্লাবে একই সময়ে একাধিক গোষ্ঠী ‘কমিটি’ ঘোষণা করেছে বা করার চেষ্টা করছে; অভিযোগ রয়েছে যে কিছু মহল রাজনৈতিক দলের লোকজন দিয়ে ‘সংযুক্ত কমিটি’ গঠন করতে চায়। এই ত্রিমুখী কমিটির ফলে সংবাদসংগ্রহ ও নিউজ পরিবেশনও ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। (এই অভিযোগগুলো স্থানীয় সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কথ্য সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে)।
গত এক বছর ধরে মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকারিতা ও কমিটি নিয়ে নানা খবর এসেছে; ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন রিপোর্টে আমিনুল ইসলাম রিপনকে ক্লাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ও কমিটি গঠনের খবর প্রকাশ পেয়েছে।
প্রেসক্লাব সভাপতির স্থিতি ও বক্তব্য
বর্তমান প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপন সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন তিনি বৈধ কাগজপত্রে এখনও প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং যে—কেউ যদি বেআইনি দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে — এমন প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন। রিপন অসুস্থ থাকায় নানামুখী অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কেউ মিরপুর প্রেসক্লাবকে রাজনৈতিক দল (আওয়ামী লীগ) পুনর্বাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে—এমন আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি তাঁর বক্তব্যে ছিল। এই প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আগেই স্থানীয় সংবাদে উঠে এসেছে।
পক্ষপতনের অভিযোগ-প্রতিবাদ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিম্নলিখিত নামগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কমিটির কথা বলা হচ্ছে — (১) আমিনুল ইসলাম রিপন ও মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, (২) আমির হোসেন ও জহির উদ্দিন, এবং (৩) গোলাম কাদের ও তারেক হোসেন। প্রত্যেক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে—কেউ বলছে তারা প্রেসিডেন্ট/সেক্রেটারি পদ ধরেছে; অন্যরা সেই দাবি খণ্ডন করছে। এই ত্রিমুখী টানাপোড়েনে মিরপুর প্রেসক্লাব থেকে সংবাদ ছাপা-বিক্রি ও তথ্যপ্রবাহেও বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে—স্থানীয় সাংবাদিকদের বক্তব্যে এমনই বলা হয়েছে। (নিম্নোক্ত অংশগুলো হলো ক্লাব-জমায়েত ও সাংবাদিকদের মৌখিক সূত্রের ভিত্তিতে রচিত)।
সাংবাদিকদের দাবি: গণভোট ও অনুচ্চারিত নির্বাচন
ক্লাবের অনেক সাংবাদিক দাবি করেছেন—যদি নতুন কোনো কমিটি করা হয়, তাহলে সেটা হঠাৎ করে ঘোষণা না করে সাংবাদিক সমাজকে আগেভাগে জানিয়ে, আলোচনায় বসে এবং নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন করে গঠন করা উচিত। তারা বলেন, হটগ্ল্যান্স বা রাজনৈতিক ব্যাকিং-সহ কমিটি হলে সেটি প্রেসক্লাবের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে এবং সংবাদপেশার স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। পূর্বের কিছু ঘটনার সূত্রে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক পক্ষপাত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন—সেই ইতিহাস বিবেচনায় নেয়ার আহ্বানও করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও আইনি দিক
বৈধ নথি ও নিবন্ধন-প্রক্রিয়া—যদি থাক—সেগুলো দেখেই কমিটি বৈধ কি না তা নিরূপণ করা যায়। মিরপুর প্রেসক্লাব সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কভারেজে উল্লেখ আছে যে কমিটি গঠন নিয়ে সময়ে সময়ে ঘোষণা ও বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে; যেহেতু বিষয়টি রাজনৈতিক সংবেদনশীল, তাই পক্ষগুলোর লিখিত নথি, নির্বাচন-বিবরণ ও ক্লাবের আচার-নীতিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page