নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা মহানগরের সাংবাদিকতার ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম মিরপুর প্রেসক্লাব আবারও তীব্র বিতর্কে। অভিযোগ উঠেছে, আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ একটি মহল রাজনৈতিক প্রভাবে নতুন “সংযুক্ত কমিটি” গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে প্রেসক্লাবের বর্তমান নেতৃত্ব—সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন—এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “মিরপুর প্রেসক্লাব জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিকদের ঘর। একে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র বানাতে দেওয়া হবে না।”
🔹 ত্রিমুখী কমিটি বিভ্রান্তি ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা
তথ্যসূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনটি পক্ষ নিজেদের মিরপুর প্রেসক্লাবের বৈধ কমিটি বলে দাবি করছে—
১️⃣ আমিনুল ইসলাম রিপন ও শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান প্রেসক্লাব কমিটি
২️⃣ আমির হোসেন ও জহির উদ্দিনের তথাকথিত বিকল্প কমিটি
৩️⃣ গোলাম কাদের ও তারেক হোসেনের দাবি করা তৃতীয় পক্ষের কমিটি
এই ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে মিরপুরের সাংবাদিক সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে মাঠে এবং বাস্তব কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে কেবল রিপন–শিহাব কমিটিই। এই কমিটির মাধ্যমেই গত এক দশকে মিরপুরের সংবাদকর্মীরা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠে টিকে থেকেছেন এবং গণমাধ্যমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।
🔹 জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক বর্তমান কমিটি
মিরপুর প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম রিপন বলেন —
“আমি এখনো বৈধ কাগজপত্রে মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি। অসুস্থতার সুযোগে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়ে প্রেসক্লাবটিকে আওয়ামী লীগের ঘেরাটোপে নিতে চাইছে—কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। এই প্রেসক্লাবের ইতিহাস স্বাধীন সাংবাদিকতার, তোষণমূলক রাজনীতির নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“যদি নতুন কোনো কমিটি করা হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই নির্বাচন ও সর্বজনীন আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। কাউকে গোপনে বা দলীয় প্রভাবে চাপিয়ে দিলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।”
🔹 সাংবাদিক সমাজের আস্থা রিপন–শিহাব নেতৃত্বে
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে (তৎকালীন আওয়ামী লীগ আমলে) সাংবাদিকদের হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও হুমকির মধ্যেও আমিনুল ইসলাম রিপন ও শিহাব উদ্দিন সংবাদপেশার মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন।
ইসিবি চত্বরের আন্দোলন থেকে শুরু করে মিরপুর-১০ চত্বরের সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী মানববন্ধন—সবক্ষেত্রেই এই নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের নেতৃত্বেই মিরপুর প্রেসক্লাব আজ “সংবাদনির্ভর কেন্দ্র” হিসেবে টিকে আছে, যেখানে প্রতিদিন স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা কাজ করেন।
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন —
“আজ মিরপুর প্রেসক্লাবকে বাঁচিয়ে রেখেছে রিপন-শিহাব নেতৃত্ব। অন্যরা কাগজে কলমে কমিটি দাবি করলেও মাঠে কাজ করছেন তারাই।”
🔹 প্রেসক্লাবের ঐক্য ও স্বাধীনতার আহ্বান
রিপন ও শিহাব উদ্দিন উভয়েই মনে করেন, মিরপুর প্রেসক্লাব কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়—এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। তাই ভবিষ্যতে কোনো কমিটি গঠনের আগে সকল সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রেসক্লাব পরিচালনা করা হবে।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন —
“যদি কেউ আওয়ামী লীগকে সামনে রেখে এই প্রেসক্লাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।”
🔹 উপসংহার
রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগের মুখে মিরপুর প্রেসক্লাব আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তে প্রেসক্লাবের স্থিতিশীলতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন অনেকে—
আমিনুল ইসলাম রিপন ও শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বই এখন মিরপুরের সাংবাদিকতার প্রাণভোমরা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page