
নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং বন্ধ থাকতে থাকতে হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্টের পথে রয়েছে। এই বন্ধ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, আখ চাষিদের আখের বিক্রয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।
কেন বন্ধ আছে?
এই মিলটি দীর্ঘ দিন ধরে লোকসানের বোঝা এর কারণে সমস্যায় পড়ছে। ২০০১-০২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে প্রায় ১৯ বছরে প্রায় ৪৬১ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে থাকা ১৫টির মধ্যে ছয়টি মিলসহ এটিও ২০২০-২১ মৌসুম থেকে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।
বন্ধ থাকায় মিলে রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে।
যথাযথ বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের অভাবে কার্যকরভাবে চলছে না।
সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
কেন এটা চালু রাখা জরুরি?
স্থানীয় কৃষকরা আখ চাষ করে থাকেন, মিল থাকলে উৎপাদন ও বিক্রয় নিরাপদ হয়।
কর্মচারী ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফেরাবে।
দেশীয় চিনির উৎপাদন বাড়লে আমদানিকৃত চিনির ওপর নির্ভরতা কমবে, চিনি বাজারে স্বস্তি আসবে।
মেলা অবস্থায় থাকলে মিল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোয়ের অবকাঠামোর নষ্ট হওয়া রোধ করা সম্ভব।
বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী ধাপ
বর্তমানে মিলের অনেক যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা ব্যবহার ছাড়া পড়ে রয়েছে ও নষ্টের পথে রয়েছে।
মিল পুনরায় চালু করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে হলেও, অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় গতিবিধি নেই।
স্থানীয় ভাবে শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতারা মিলটি রক্ষা ও চালু করার দাবি জানাচ্ছেন।
আমাদের দৃষ্টিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখা বিষয়
মিলটি পুনরায় চালু করতে হলে আখ চাষের যোগান, যন্ত্রপাতির সংস্কার, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা তিনটি বিষয় অগ্রাধিকার পাবে।
বন্ধ হওয়ার কারণে শুধু মিলেই নয়, চাষি, শ্রমিক, এলাকায় সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যাঁরা যুক্ত ছিলেন তাঁদের জন্য ক্ষতির পরিমাণ বড়।
দ্রুত পুনরায় চালু করা গেলে একদিকে লোকসান রোধ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page