
বদিউজ্জামান-জলঢাকা, নীলফামারী :
টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে সরকারের চলমান স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আজ শনিবার জলঢাকা উপজেলায় ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুদের এ টিকা প্রদান করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: নন্দা সেন গুপ্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জলঢাকা। তিনি বলেন,
"টাইফয়েড একটি প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ, এবং টিকাই এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে হাজার হাজার শিশু মারাত্মক জ্বর ও জটিলতা থেকে রক্ষা পাবে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান, নির্ধারিত সময়েই যেন তাদের সন্তানদের টিকা গ্রহণ করান।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোছা: মাফরুহা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এবং সাজ্জাদুজ্জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। বক্তারা বলেন, এ ধরনের স্বাস্থ্য উদ্যোগ শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্যাম্পেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রেখে মামুনুর রশিদ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং দীনেশ চন্দ্র রায় গীতা পাঠ করেন। এরপর একটি প্রতীকী টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। স্থানীয় শিশুদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য সহকারীরা প্রথম ধাপের টিকা প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকার প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও টিকা প্রদান করবেন। এছাড়াও নির্ধারিত অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতেও টিকা দেওয়া হবে।
মো: সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান শিক্ষক, আলহেরা এডুকেয়ার হোম কেজি ও হাই স্কুল, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
"আমাদের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এধরনের ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।"
মোঃ রাশেদুল ইসলাম, চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জলঢাকা, জানান,
"সরকার এই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করছে এবং এটি WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) অনুমোদিত ও নিরাপদ। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে।"
স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ। অনেকেই তাদের সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে আগ্রহ দেখিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সমাজের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করে তোলে।
টাইফয়েড জ্বর সাধারণত Salmonella Typhi ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে, যা নিম্নমানের পানি ও অনিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। শিশুরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সময়মতো সঠিক টিকা গ্রহণ করলে টাইফয়েড প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা
স্থানীয় স্কুল, মাদ্রাসা, ওয়ার্ড কেন্দ্র এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে
টিকা ফি: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা: WHO অনুমোদিত, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই সীমিত ও তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত
আপনার সন্তানের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা দিন।
স্বাস্থ্যই ভবিষ্যৎ—এই বার্তাকে সামনে রেখে জলঢাকা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ একযোগে কাজ করছে। সকল অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধি একসঙ্গে কাজ করলে এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page