
সাইমন :
বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দূর্নীতি। সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫৭ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের হাতে কার্ড পৌঁছায় না। কার্ড নিতে হলে অভিভাবকদের আবারও আলাদা টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা, যারা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সন্তানকে শিক্ষার আলো দিতে চান।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এভাবে বাণিজ্যিকীকরণ ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে শিক্ষা একটি পণ্যতে পরিণত হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত নিয়ম ও ফি অমান্য করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে কিন্ডারগার্টেন পরিচালনাকারীরা।
এ সময় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকরা অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইলে তাদের মুখ বন্ধ করতে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখার এই অনৈতিক প্রচেষ্টা দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে এই দুর্নীতি শিশু ও অভিভাবকদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানের পরিবর্তে টাকার লেনদেনই মুখ্য হয়ে উঠছে।
অভিভাবক সমাজ দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে এসব অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান— দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুল কার্যক্রম বাতিল করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে জোর দিতে হবে। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা আসবে, অন্যদিকে সাধারণ ও গরিব মানুষের সন্তানও সমান সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় যখন এমন অনিয়ম এবং সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার মতো অনৈতিক প্রচেষ্টা দেখা দেয়, তখন তা গোটা সমাজকেই সংকটে ফেলে দেয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা সম্পাদকঃ ইঞ্জিঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৫You cannot copy content of this page